Rohingya Rohingya


Video Song



(RingTone Code) 
Gp/Airtel/Teletalk/Robi    6055445
Banglalink                         59116356
   
For GP : wt space songcode send 4000 
For Airtel : ct space songcode send 3123
For Teletalk : tt space songcode send 5000   
For Robi : get space songcode send 8466
For Banglalink: down songcode send 2222
 
রোহিঙ্গারা পশ্চিম মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাংশে বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী। রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই মুসলমান। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। রোহিঙ্গারা বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন এখন বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমগুলোর শিরোনাম।
 
ধারণা করা হয় রোহিঙ্গা নামটি এসেছে আরাকানের রাজধানীর নাম ম্রোহং থেকে। আরাকান হলো রাখাইন রাজ্যের আগের নাম। ম্রোহং শব্দটি বিকৃত হয়ে রোয়াং, এরপর রোয়াইঙ্গিয়া থেকে রোহিঙ্গা শব্দের উৎপত্তি হয়েছে। তবে মধ্য যুগের বাংলা সাহিত্যে আরাকানকে ডাকা হতো রোসাং নামে। সেখান থেকেও রোহিঙ্গা শব্দের উৎপত্তি হতে পারে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা থাকলেও নিজেদের লিখিত হরফ নেই। তাদের ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয়ান ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত যার সাথে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার মিল রয়েছে।
 
মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১১ লাখের মতো। মিয়ানমার সরকার ১৩৫টি জাতিগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গারা এই তালিকার অর্ন্তভুক্ত নয়। মিয়ানমার সরকারের মতে, রোহিঙ্গারা হলো বাংলাদেশি, যারা ১৯৪৮ সালে বার্মার (মিয়ানমারের আগের নাম) স্বাধীনতার সময় এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অবৈধভাবে মিয়ানমারে এসে বসবাস করছে।
 
তবে মিয়ানমার সরকারের এই দাবীর সঙ্গে ইতিহাসের বক্তব্য মেলে না। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যীয় মুসলমান ও স্থানীয় আরাকানীদের সংমিশ্রণে রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভব। পরবর্তীতে চাঁটগাইয়া, রাখাইন, আরাকানী, বার্মিজ, বাঙালি, ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষদের মিশ্রণে উদ্ভুত এই সংকর জাতি এয়োদশ-চর্তুদশ শতাব্দীতে পূর্ণাঙ্গ জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ঐতিহাসিকভাবে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, ব্রিটিশরা বার্মায় শাসক হিসেবে আসার কয়েক শতাব্দী আগেই রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে। রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি আরাকান ছিল স্বাধীন রাজ্য। ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোডপায়া এটি দখল করে বার্মার অধীন রাজ্যে পরিণত করেন। এক সময়ে ব্রিটিশদের দখলে আসে এ ভূখণ্ড। তখন বড় ধরনের ভুল করে তারা এবং এটা ইচ্ছাকৃত কিনা, সে প্রশ্ন জ্বলন্ত। ব্রিটিশরা মিয়ানমারের ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠীর তালিকা প্রস্তুত করে। কিন্তু তার মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ব্রিটিশ শাসকদের এই ভুলের সুযোগ নেয় মিয়ানমার। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন পাশ হলে রোহিঙ্গা মুসলমানদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেওয়া হয়। এমনকি ২০১৪ সালের আদমশুমারিতেও রোহিঙ্গাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
 
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার না করায় সকল প্রকার নাগরিক ও মৌলিক সুবিধা হতে বঞ্চিত রোহিঙ্গারা। তাদের ভোটাধিকারও নেই। রাখাইন প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার। সরকারও এই নিপীড়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধন যুগিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
 
প্রায়ই মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা নিপীড়নের খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন লোকালয়ে হানা দেয়। ২০১২ সালে রাখাইন রাজ্যের বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে ভয়াবহ জাতিগত দাঙ্গায় অন্তত ২০০ মানুষ প্রাণ হারায়। ওই সময় ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা গৃহত্যাগে বাধ্য হন।
 
সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর আবার নতুন করে নির্যাতন শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর মিয়ানমার থেকে প্রায় প্রতিদিনই হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর রাখাইন রাজ্যে জাতিগত দমনপীড়ন শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেখানে ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া, নারীদের ধর্ষণসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চলছে। ধারণা করা হচ্ছে সাম্প্রতিক এই নির্যাতনে অসংখ্য রোহিঙ্গা হত্যার শিকার হয়েছেন।
 
জাতিগত ও রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে প্রায় দুই দশক থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোহিঙ্গারা থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়া-বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। নৌপথে সীমান্ত পাড়ি দিতে গিয়ে অসংখ্য রোহিঙ্গা ডুবে মারা যাচ্ছেন। অবৈধ পথে বিদেশে ঢুকতে গিয়ে তাদের অনেকেই মারা পড়ছেন, নয়তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে কারাগারে যাচ্ছেন।
 
জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এই সহিংসতা বন্ধের পাশাপাশি তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে এলেও এই ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তা যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ের দাবিতে বিশ্ববিবেক অনেকটাই নিরব। মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সাং সু চি’র ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ।
 
এভাবে মিয়ানমারে মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর আর কত নির্যাতন চলবে? ইতিহাস বলে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমরা উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো জাতি নয়। তারা সেখানে অবস্থান করছেন আদি নিবাস সূত্রেই। তাহলে কেন তাদের ওপর এ জুলুম ও নির্যাতন? কি অপরাধে তাদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে? বিতাড়িত করা হচ্ছে নিজ দেশ, ভূখণ্ড ও জন্মভূমি থেকে? এ প্রশ্ন বিশ্ব বিবেকের কাছে।
 
মানবতার কোনো ধর্ম নেই, জাত নেই। মিয়ানমারে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা আমাদের ভাই, আমাদেরই বোন। সরকারের মদদপুষ্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর যে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালাচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে একটি জাতিকে তাদের যৌক্তিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে পুরোপুরি নিচিহ্ন করে দেওয়ার চেষ্টা বৈআইনি এবং মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ। নির্যাতনকারীদের বোঝা প্রয়োজন এভাবে হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করে তারা পার পাবে না। মানুষ হয়ে মানুষ হত্যার চেয়ে পাপ আর নেই।
 
হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ বা মারামারি কোনো সমাধান বা মানবকল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। একমাত্র ভালোবাসাই পারে বিশ্বজয় করতে। সব ধরনের অন্যায় স্বার্থ ও হিংসা ভুলে ভালোবাসায় উদ্দীপিত হোক প্রতিটি মানুষ। জেগে উঠুক বিশ্ববিবেক। বন্ধ হোক রোহিঙ্গাদের ওপর জুলুম ও অত্যাচার। মানবপ্রেমের অমর মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে সবাই মিলে গড়ে তুলুক এক শান্তির পৃথিবী। সবার কাছে কবির এই আবেদন।
 
 
The Rohingyas are Muslim Indo-Aryan people from the Rakhine State of Myanmar. The Myanmar government has not recognized them as citizens for which they are being persecuted in their birthplace. According to the United Nations and other international right groups, Rohingyas are one of the most persecuted minorities in the world. The headlines of international media are marked with the heart-touching news of brutal attacks on Rohingya people.
 
Some historians said that the term 'Rohingya' is derived of from 'Mrohaung' (Old Arakanese Kingdom). Among the Muslim populations in Myanmar, the term 'Mrohaung' was corrupted to 'Rohang'. And thus inhabitants of the region are called 'Rooinga' and then 'Rohingya'. The term first is that spoken by the Muslims who have long settled in Arakan and who call themselves 'Rooinga' or natives of Arakan. The Rohingyas have their own language Rohingya which is part of the Indo-Aryan sub-branch of the greater Indo-European language family and is related to the Chittagonian language spoken in the southernmost part of Bangladesh bordering Myanmar.
 
About 11 lakh Rohingyas live in Myanmar. They reside mainly in the northern Rakhine townships, where they form 80–98% of the population. However, Myanmar government has not recognized Rohingyas as citizens. The official stance of the Myanmar government, however, has been that the Rohingyas are mainly illegal immigrants who migrated into Arakan following Burmese independence in 1948 or after the Bangladesh liberation war in 1971
 
Many historians differ with the claim. The Rohingyas claim their ancestors have lived in the state for many centuries, and tend to share similar customs to the Rakhine Buddhists. They identify themselves ‘Arakanese Muslims’, ‘Burmese Muslims’ or simply ‘Muslims’. Rohingya and most Muslims whose ancestors originate from India and Bangladesh would have been considered as citizens of Burma under the 1948 Constitution and civilian administration until the military coup of 1962. Their status was subsequently downgraded under the 1974 Constitution, which does not recognize them as indigenous, and the Citizenship Act of 1982, which states that citizens must belong to one of 135 ‘national races’ as recognized under the constitution, or whose ancestors settled in the country before 1823. Given the lack of documentation to satisfy the latter requirement as British rulers also did not include them to national races, the result has been a hugely discriminatory denial of citizenship for most Rohingya and many other Muslims, effectively rendering them stateless. As a result, they have faced numerous discriminatory obstacles in access to education, health, travel, many areas of employment and even in terms of receiving permits allowing them to get married.
 
Since 1982 and their loss of citizenship, Rohingya have been persecuted and oppressed to an astounding level. They have been particularly targeted for atrocities committed by the Burmese army such as torture, cruel, inhuman and degrading treatment and punishment, extra-judicial killing and summary execution, arbitrary arrest and detention, rape, destruction of homes, forced labour, forced relocation and eviction, confiscation of land and property, etc.
 
Fresh violence occurred against the Rohingya people in recent time. The bloodshed is the most serious since hundreds were killed in communal clashes in the western Myanmar state of Rakhine in 2012. Myanmar soldiers have poured into the area along Myanmar's frontier with Bangladesh, responding to coordinated attacks on three border posts on October 9 that killed nine police officers. They have locked down the district, where the vast majority of residents are Rohingya, shutting out aid workers and independent observers. The army has intensified its operation and has used helicopters, with hundreds of people reported killed while scores of Rohingya women raped.
 
Many Rohingyas have fled to ghettos and refugee camps in neighbouring Bangladesh, Thailand and Malaysian border. Many Rohingyas faced tragic death while crossing the border on boats. Besides, vast numbers of Rohingya people are gunned down as they tried to cross neighbouring borders illegally or arrested by law enforcers and being pushed back.
 
The United Nations along with other international human rights groups kept calling on Myanmar government to stop the atrocities on Rohingya people and recognize them as citizens. However, the initiatives are not enough to create pressure on Myanmar in this issue. The world conscience is mostly numb in this regard. Even the stance of Myanmar ruling party leader and Nobel Peace Prize winner Aung San Suu Kyi is questionable.
 
Now, the question is how long these atrocities on Rohingya people will go on? History supports that the Rohingyas are not settlers from outside. They have long been residing there. Then, why they are facing violence against them? Why are they being killed? Why are they being displaced from their birthplace? The world must face these questions to raise voices for the persecuted Rohingya people. 
 
Humanity does not have any religion or caste. The persecuted Rohingya people are our brothers and sisters. The Myanmar army being supported by the government is conducting massive atrocities on Rohingyas in the name of crackdown. This is not acceptable at all. This is a pure violation of human rights and crimes against humanity. The persecutors must understand that they won't be spared even after torturing, killing and raping Rohingyas. Being human, destroying lives of other human, is a grave sin.        
 
 
Killing, setting fire, looting or other vices cannot bring any welfare to humanity. It's only love by which the world can be conquered. Let all people come out of all malice, hatred and evil desires to be enkindled by love. Let the world conscience arise. Let the atrocities on Rohingyas be come to an end. Joining hands being enlighten by love to humanity, let all build a peaceful world. This is the earnest request of the poet.